ডিজিটাল রূপান্তরে প্রতিটি গ্রাম শহরে পরিণত হচ্ছে : পলক
বিদ্যুত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি গ্রাম এখন আস্তে আস্তে শহরে পরিণত হচ্ছে। গ্রামে বসেই শহরের মতো নাগরিক সেবা মিলছে। এতে গ্রাম পর্যায়ে শিক্ষিত হওয়ার প্রবণতা বাড়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। ফলশ্রুতিতে ফসলী মৌসুমে সঙ্কট দেখা দিচ্ছে কৃষি শ্রমিকের। এই সঙ্কট দূর করতে কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৫০ শতাংশ ভর্তুকী মূল্যে কম্বাইন্ড হার্ভেস্টিং মেশিন উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশজুড়ে ভবিষ্যত সন্তানদের কর্মসংস্থানমুখী করতে উপজেলা পর্যায়ে আইটি ট্রেনিং সেন্টার হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) সকালে নাটোরের সিংড়ায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতিসহ বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
তিনি আরো বলেছেন, যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া কোনো দেশ, কোনো জাতি কখনোই এগিয়ে যেতে পারে না। গত ১৩ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা, সাহসীকতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশ দ্রুত উন্নতির শিখরে পৌঁছে যাচ্ছে।
বক্তব্যে চলমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে অল্পদিনে মধ্যেই হয়তো দেশের কৃষকরা ড্রোন দিয়ে দেশের কৃষকরা সার সিটাবেন এবং পোকামাকড় মারতে পারেন সে জন্য আইসিটি বিভাগ এসব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে বলে জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী।
এসময় এই উন্নয়ন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে উপস্থিত সবাইকে নেতৃত্ব নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত না নেয়ার আহ্বান জানান পলক।
সমস্যার যৌক্তিক সমাধানকারী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের তুলনা দিতে গিয়ে পলক বলেন, একসময় রাস্তার পাশের গাছ কাটা নিয়ে মামলা মোকদ্দমা হতো। এখন হয় না। কেননা প্রধানমন্ত্রী নের্দেশনা দিয়েছিলেন- রাস্তার ধারে যে গাছগুলো লাগানো হবে সেই গাছগুলো যারা পরিচর্যা করবে তারাও সুফলভোগী হবে। সঙ্গে সড়ক-জনপদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কিংবা রাস্তার জায়গার মালিকও এর অংশীদার হবে। পাশাপাশি যে ইউনিয়নের ভেতরে বৃক্ষগুলো রোপন করা হয়েছে তারাও ৫ শতাংশ লভ্যাংশ পাবে। পুরো পদ্ধতিটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তের কারণেই আজ রাস্তার পাশের গাছগুলো সুন্দর ভাবে বেড়ে উঠছে। তা কেটে আবার সেখানে গাছ লাগানো হচ্ছে। স্থানীয়রা এর সুফল পাচ্ছেন। সিংড়াকে ফুলে-ফলে সমৃদ্ধ চলনবিল গড়ে তুলতে েএবার ৫০ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচির ঘোষণা দেন পলক।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী সামাজিক বনায়নের ১২৪ জন উপকারভোগীকে ৫৯ লাখ ৭৮৪ টাকা, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ এবং তিনজন ভূমি মালিককে মোট ৮৩ লাখ ১২ হাজার ২২০ টাকার চেক বিতরণ করেন।
এছাড়া কৃষিযান্ত্রিকী করণ প্রকল্পের অধীনে ভর্তুকি মূল্যে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ১৫টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার এবং ৪টি থ্রেসার মেশিন বিতরণ করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে ৫ কেজি করে আউশ ধানের বীজ, ২০ কেজি করে ডিএসপি সার বিতরণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম সামিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ, জেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা, শেরকোল উপজেলা চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবিব রুবেল এবং উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা।